নামাজ শেষে বা সালাম ফেরানোর পর আল্লাহর যিকর ও দু’আ(দলিলসহ)।

নামাজ শেষে বা সালাম ফেরানোর পর আল্লাহর যিকর ও দুআ।

Zikr

রাসূলুল্লাহ সা. ও সাহাবায়ে কিরামগণ ফরয সালাতের সালাম ফেরানোর পর যা পাঠ করতেন তা বিশুদ্ধ হাদীসসমূহের আলোকে নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

  • রাসূল সা. ফরয সালাতে সালাম ফিরিয়ে আল্লাহু আকবার(একবার) উচ্চ আওয়াজে বলতেন । সাহাবী ইবনে আব্বাস রা. বলেন: আমি ঐ তাকবীর শুনে রাসূল সা. এর সালাত শেষ হওয়া বুঝতে পারতাম। এক্ষেত্রে এক তাকবীর ইমাম সাহেব উচ্চ আওয়াজে পড়বেন, আর মুক্তাদী সাধারণ আওয়াজ পড়বে। – (বুখারীঃ ৮৪২, মুসলিমঃ৫৮৩, মিশকাতঃ ৮৮পৃঃ)
  • একবার আল্লাহু আকবারবলার পর তিনবার {আস্তাগ্ ফিরুল্লা} পড়তেন। অর্থ: (সালাতের সব ভুল ত্রুটি হতে) আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।(মুসলিমঃ৫৯১, মিশকাতঃ ৮৮পৃঃ)
  • তারপর এই দুআ একবার পড়তেনঃ

a1

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্ তাস্ সালামু ওমিন্ কাস্ সালামু তাবারাক্ তা ইয়াযাল্ জালালি ওয়াল্ ইক্ রাম।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময় এবং তোমা হতেই শান্তি উৎসারিত হয়। তুমি বরকতময়! হে মহত্ব ও সন্মানের অধিকারী। – (মুসলিমঃ ৫৯১, মিশকাতঃ ৮৮পৃঃ)

 

বি: দ্র: রাসূল সা. উপরোক্ত তিনটি দুআ কিবলামুখী হয়ে পড়তেন, তারপর ডান বা বাম পাশ হয়ে মুক্তাদীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন। বিশেষ করে কিছু বলার ইচ্ছা করেন। আবার কখনও ডান দিক মুখ করে বসতেন। – (বুখারীঃ ৭০৯, ৮৪৭, ৮৫২, মুসলিমঃ ৪২৬, ৭০৮, তাহক্বীক্ব মিশকাতঃ ৯৪৪, ৯৪৬, ৯৪৭)

  • আব্দুল্লাহ ইবনে যাবয়ের রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. সালাতের সালামের পর নিম্ন দুআটি পাঠ করতেন:

a2

উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহু লাশারীকা লাহু লাহুল মুল্ কু ওয়ালাহুল হাম্ দু ওয়াহুয়া আলাকুল্লি শাইয়িন্ ক্বাদীর, লাহাওলা ওয়ালাকূয়্যাতা ইল্লাবিল্লা, লাইলাহা ইল্লাল্লা, ওয়ালানাবুদু ইল্লাইয়্যাহু, লাহুন, নিমাতু ওয়ালাহুল্ ফায্ লু. ওয়ালাহুস্ সানাউল হাসান, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখ্ লিসীনা লাহুদ্ দীন্, ওয়ালাও কারিহাল্ কাফিরূন।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মাবুদ নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসা মাত্রই তাঁর এবং তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাশীল। কোন অন্যায় ও অনিষ্ট হতে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় নেই এবং কোন সৎ কাজ করারও ক্ষমতা নেই একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মাবূদ নেই, আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করি, যাবতীয় নিয়ামত/অবদান ও অনুগ্রহ একমাত্র তাঁরই পক্ষ থেকে এবং উত্তম প্রশংসাও তাঁর। আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মাবূদ নেই। আমরা তাঁর দেয়া জীবন বিধান একমাত্র তাঁর জন্য একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফিরদের নিকট তা অপ্রীতিকর । – (মুসলিমঃ ১৩৪২)

  • রাসূল সা. মুআয রা. কে বলেন তুমি এ দুআটি সালাতের পর পড়তে কখনো ছেড়ে দিও না:

a3

উচ্চারণ: রাব্বি আইন্নী আলাযিক্ রিকা ওয়া শুক্ রিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।

অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে তোমার স্মরণ করার, তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার এবং তোমার উৎকৃষ্ট ইবাদাত করার কাজে  মদদ কর। – (আবূ দাঊদঃ ১৫০৮, বুলূগুল মারামঃ ৮৫ পৃঃ)

 

  • মুগীরাহ্ ইবনে শুবাহ্ বলেন, রাসূল সা. প্রত্যেক ফরয সালাতের পর এই দুআ পড়তেন:

a4

উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহূ লাশারীকা লাহূ লাহুল মুল্ কু ওয়া লাহুল্ হাম্ দু ওয়া হুয়া আলাকুল্লি শাইয়িন্ ক্বাদীর। আল্লাহুম্মা লামানিআ লিমা আত্বাইতা ওয়ালামুত্বিয়া লিমামানাতা ওয়ালাইয়ান্ ফাউ যাল্ জাদ্দি মিন্ কাল জাদ্দু।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মাবূদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমগ্র রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই। আর তিনি সব কিছুর উপর শক্তিশালী। হে আল্লাহ! তুমি যা দিয়েছ তা রোধ করার কেউ নেই, আর তুমি যা রোধ করেছ তা দান করার সাধ্য কারো নেই। আর ধনবানদের ধন তোমার আযাবের মুকাবিলায় কোন উপকার করতে পারে না। – (বুখারীঃ ৮৪৪, মুসলিমঃ ৪৭১, মিশকাতঃ ৮৮পৃঃ)

  • রাসূল সা. নিম্ন দুআ পাঠের মাধ্যমে প্রত্যেক সালাতের শেষে আল্লাহর নিকট পানাহ চাইতেন:

a5

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিনাল্ জুব্ নি ওয়া আঊযুবিকা মিনাল বুখ্ লী ওয়া আঊযুবিকা মিন্ আর্ যালিল উমুরি ওয়া আঊযুবিকা মিন ফিত্ নাতিদ্ দুন্ ইয়াওয়া আঊযুবিকা মিন আযাবিল্ ক্বাবর।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কাপুরুষতা এবং কৃপণতা হতে আশ্রয় চাচ্ছি। আরো বার্ধক্যের লাঞ্চনাগঞ্জনা ও দুনিয়ার ফিতনা ফাসাদ এবং কবরের আযাব হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। – (বুখারীঃ ৬৩৭০, মিশকাতঃ ৮৮পৃঃ)

আয়াতুল কুরসীর ফযীলত

  • রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে, তার জান্নাতে যাওয়া হয়নি এজন্যে যে তার মৃত্যু হয়নি। – (নাসায়ী আমালুল ইয়াউমঃ ১০০, ইবনু হিব্বান, বুলূগুল মারামঃ ৮৬পৃঃ)

a6

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া আর কোন সত্যিকার উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও সক্রিয় সংরক্ষক, তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর জন্য। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে? তিনি অগ্র পশ্চাতের সমস্ত কিছু অবগত আছেন। আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তাঁর ইলমের কিঞ্চিতাংশও কেউ আয়ত্ত্ব করতে পারে না। তাঁর কুরসী সমস্ত নভোমণ্ডল ও পৃথিবীব্যাপী পরিব্যাপ্ত। এ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলএর রক্ষণাবেক্ষণে তাঁর মোটেই বেগ পেতে হয় না। তিনি বহু উন্নত ও মহান। – (সূরাঃ বাক্বারা:২৫৫)

 

  • উকবাহ্ বিন আমির রা. বলেন, রাসূল সা. আমাকে প্রতি সালাতের পর সূরা ফালাক্ব ও নাস পাঠ করার নির্দেশ দেন। – (আহমাদঃ১৭৪১৭, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, তাহক্বীক্ব মিশকাতঃ ৯৬৯)

 

তিন তাসবীহের ফযীলত

  • রাসূল সা. বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর সুব্ হানাল্লা৩৩ বার, আল্ হাম্ দুলিল্লা৩৩ বার, এবং আল্লাহু আক্ বার৩৩ বার, অতঃপর নিম্নের দুআটি ১ বার পড়ে সর্বমোট ১০০ বার পূর্ণ করবে, তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয়। – (মুসলিমঃ ৫৯৭, তাহক্বিক্ব মিশকাতঃ ৯৬৭)

a7

উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্ দাহূ লাশারীকা লাহূ লাহুল মুল্ কু ওয়া লাহুল হাম্ দু ওয়া হুয়া আলাকুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোন উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সমগ্র রাজত্ব একমাত্র তাঁরই জন্য ও সকল প্রকারের প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।

 

সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রর্থনার শ্রেষ্ঠ দু

  • রাসূল সা. বলেন, আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে কেউ যদি প্রতিদিন সকাল (ফযরের পরে) ও সন্ধ্যায় (আসর বা মাগরিবের পরে) পড়ে – আর সে ঐদিন মারা যায় – ইন শা’ আল্লাহ সে জান্নাতে যাবে। – (বুখারী, তিরমিযী ৫/৪৬৬)

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِر لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রববী লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়াআনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোন প্রভু নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেওয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতি পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমাকে যে নিয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমার পাপ সমূহ স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই। – (বুখারী, মিশকাত হা/২২২৭)

নামাযে যা কিছু পড়া হয়, তার সবকিছুর অর্থ কি আমরা জানি।

Posted on মার্চ 10, 2015, in যিকর ও দু'আ and tagged , , , . Bookmark the permalink. মন্তব্য দিন.

রিপ্লাই

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s