সাজদায় রাসূল (সা:) যে দোয়াগুলো পড়েছেন।

সাজদায় রাসূল (সা.) যে দোয়াগুলো পড়েছেন।

Sajdai Rasul(SAW)

 1Sajdaah. অর্থঃ আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করিতেছি।

আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারু কুতনী, তাহাবী, বাযযার। তাবারানী ৭জন সাহবী থেকে তা বর্ণনা করেছেন।

এই তাসবীহটি রাসূল (সা.) কখনো তিনবার, কখনোবা আরও বেশী পড়তেন। আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারু কুতনী, তাহাবী, বাযযার। তাবারানী ৭জন সাহবী থেকে তা বর্ণনা করেছেন।

2Sajdaah. তিনি (সা.) এরূপ পড়তেন। আবু দাউদ, দারু কুতনী, আহমদ, তাবারানী, বায়হাকী।

3Sajdaah. অর্থ: আল্লাহ পবিত্র মোবারক, সকল ফেরেশতা এবং জিবরীলের প্রতিপালক। মুসলিম, আবু আওয়ানাহ।

4Sajdaah. অর্থ: হে আল্লাহ, হে আমাদের রব! তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর। বোখারী, মুসলিম।

রাসূল সা: উপোরক্ত এই দোয়াটি রুকু ও সাজদায় অনেক বেশী পড়তেন।

5Sajdaah. অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্যই সাজদাহ করছি, তোমার প্রতিই ঈমান এনেছি, তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। তুমি আমার রব। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমার মুখমণ্ডল তাঁর কাছে সাজদা অবনত। আল্লাহ বরকতময় এবং সর্বোত্তম স্রষ্টা। মুসলিম, আবু আওয়ানাহ, তাহাবী, দারু কুতনী।

6Sajdaah.অর্থ: হে আল্লাহ! আমার সকল সূক্ষ্ম ও বাহ্যিক, প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ মাফ কর।মুসলিম, আবু আওয়ানাহ।

7Sajdaah. অর্থ: আমার মনমগয তোমার উদ্দেশ্যে সাজদাহ করছে, আমার অন্তর তোমার প্রতি ঈমান এনেছে, আমি আমার উপর তোমার নেয়ামত স্বীকার করি। এই আমার হাত, আমি যে সকল অপরাধ করেছি তাও স্বীকার করি। ইবনু নসর, বাযযার(হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন)

8Sajdaah. অর্থ: সেই আল্লাহর পবিত্রতা, যিনি ক্ষমতা, বাদশাহী শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্বের অধিকারী। বু দাউদ, নাসাঈ।

নিম্নোক্ত দোয়াগুলো রাতের নামাযে রাসূল সা: পড়তেন—–

9Sajdaah. অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার পবিত্রতা ও প্রশংসা, তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। মুসলিম, আবু আওয়ানা, নাসাঈ, ইবনু নসর।

10Sajdaah১০. অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ মাফ কর। বনু আবী শায়বাহ, নাসাঈ(হাকেম এটাকে সহীহ বলেছেন এবং আল্লামা যাহাবী এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন)

11Sajdaah১১. অর্থ: হে আল্লাহ! আমার অন্তর, জিহবা, কান, চোখ, নীচে, উপরে, ডানেবাঁয়ে, সামনেপেছনে এবং দেহে নূর(আলো) দান কর এবং আমার নূরকে মহান করে দাও। মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইবনু আবী শায়বা।

12Sajdaah১২. অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির বিনিময়ে তোমার অসন্তোষ থেকে পানাহ চাই, তোমার ক্ষমা দ্বারা তোমার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই এবং তোমার ওসীলায় তোমার কাছে পানাহ চাই। তুমি নিজে নিজের যে রকম প্রশংসা করেছ আমি তোমার সে রকম প্রশংসা করতে অপারগ। মুসলিম, আবু আওয়ানা, ইবনু আবী শায়বা।

সাজদায় কোরআন না পড়া——

রাসূল (সা.)রুকু ও সাজদায় কোরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। বরং তিনি সাজদায় অধিকতর দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস, নবিজী (সা.) বলেছেন, বান্দাহ সাজদাহ অবস্থায় আল্লাহর বেশী নিকটবর্তী হয়। তোমরা সাজদায় বেশী বেশী করে দোয়া কর। মুসলিম, আবু আওয়ানা, বায়হাকী।

সাজদাহ দীর্ঘায়িত করা—–

রাসূল (সা.) রুকুর মত দীর্ঘ সাজদাও করতেন। কখনো কখনো আকস্মিক কারণে সাজদা তিনি(সা.) অতিমাত্রায় দীর্ঘায়িত করতেন।

এক সাহাবী বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) বিকেলের(আসর কিংবা মাগরিব) নামাযের জন্য সাথে হাসান কিংবা হোসাইনকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন। নবিজী (সা.) ইমামতির জন্য অগ্রসর হন এবং তাকে(হাসান বা হোসাইনকে) ডান পায়ের কাছে রাখেন। তারপর তাকবীর বলে নামায শুরু করেন। তিনি সাজদাহ করেন এবং তা খুব দীর্ঘায়িত করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মুসল্লীদের মাঝে মাথা তুলে দেখি, শিশুটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পিঠের উপর এবং তিনি সাজদারত। আমি পুনরায় সাজদায় ফিরে যাই। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামায শেষে লোকেরা জিজ্ঞেস করে, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার এই নামাযের মধ্যে একটি দীর্ঘ সাজদাহ দিয়েছেন যার ফলে আমাদের মনে দুর্ঘটনার আশংকা জেগেছে, কিংবা ধারণা করেছিলাম যে, আপনার উপর ওহী নাযিল হচ্ছিল। তিনি উত্তরে বলেন, এগুলো কিছুই ঘটেনি। আমার (হাসান কিংবা হোসাইন) আমার উপর আরোহণ করায় আমি তাকে তার সখ পূরণের আগে দ্রুত নামিয়ে দিতে পছন্দ করিনি। নাসাঈ, ইবনু আসাকির।(হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী একে সমর্থন করেছেন।)

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন নামায পড়েন, তখন হাসান ও হোসাইন তাঁর(সা.) পিঠে আরোহন করে। লোকেরা যখন শিশু দুটিকে আরোহণ করতে নিষেধ করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ইশারা দেন যে, তাদের বিষয়টা ছেড়ে দাও। নামায শেষে তিনি দুজনকে নিজের কোলে বসান এবং বলেন, যে আমাকে ভালবাসে, সে যেন এই দুজনকেও ভালবাসে। বনু খোযায়মাহ, বায়হাকী। বোখারী ও মুসলিম শরিফে এ বিষয়ে আরও হাদীস আছে।

সাজদার ফযীলত—–

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলতেন, আমার উম্মাহর মধ্যে এমন কোন ব্যক্তি নেই, যাকে আমি কেয়ামতের দিন চিনতে পারবো না। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! এত সৃষ্টির মধ্যে আপনি কি করে তাদেরকে চিনবেন? তিনি প্রশ্ন করেন, ঐ বিষয়ে তোমার রায় কি, তুমি যদি কোনো আস্তাবলে প্রবেশ করো আর সেখানে যদি কালো ঘোড়ার মধ্যে এমন একটি ঘোড়া থাকে যার পায়ের নীচের অংশ, হাত ও মুখ সাদা, তুমি কি তাকে পৃথক করে চিনতে পারবে না? সাহাবী জওয়াবে বললেন, ‘জ্বী হাঁ।তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ঐ দিন আমার উম্মতের সাজদার কারণে সাদা ধবধবে চেহারা এবং উযুর কারণে হাতপা উজ্জ্বল সাদা হবে। হমদসনদ সহীহ, তিরমিযীএ হাদীসে, হাত, পা ও মুখে উযুর চিহ্নকে ঘোড়ার হাত, পা ও মুখের শুভ্রতার সাথে তুলনা করা হয়েছে যে, এগুলোও অনুরূপ শুভ্র হবে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, আল্লাহ যদি কোন দোযখবাসীকে দয়া করার ইচ্ছে করেন, তখন তিনি ফেরেশতাদেরকে আদেশ দেবেন এবং বলবেন, আল্লাহর ইবাদতকারীকে বের করে নিয়ে আসো। ফেরেশতারা তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা তাকে তার সাজদার চিহ্নের কারণে চিনতে পারবে। আল্লাহ দোযখের উপর সাজদার চিহ্নকে জ্বালানো হারাম করে দিয়েছেন। তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আসা হবে। আগুন আদম সন্তানের শরীরের সকল অংশ খেলেও সাজদার অংশ খেতে পারবে না। বোখারী, মুসলিম।

দুই সাজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দোয়া ও যিকর——

Sajdar Majkhaner Boithoker Doaঅর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে মাফ কর, দয়া কর, আমার অবস্থাপরিশুদ্ধ করে দাও, আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও, আমাকে হেদায়াত দাও, সুস্থতা দাও, রিযক দাও। আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, হাকেম।

তিনি কখনও বলতেন:

Sajdar Majkhaner Boithoker Doa1অর্থ: হে আল্লাহ আমাকে মাফ কর, আমাকে মাফ কর। ইবনু মাজাহসনদ সহীহ। ইমাম আহমদ এই দোয়াটি মনোনীত করেছেন। ইসহাক বিন রাহওয়ায়হ বলেছেন, এটা তিনবার বলা যায় কিংবা আল্লাহুম্মাগফিরলিও বলা যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) উভয়টাই দুই সাজদার মাঝে পড়েছেন।

তিনি (সা.) রাতের নামাযেও এরূপ করতেন।

তিনি (সা.) প্রথম সাজদায় যা করতেন দ্বিতীয় সাজদায়ও অনুরূপ করতেন। তারপর তাকবীর বলে মাথা তুলতেন। মুসলিম, বোখারী।

তিনি (সা.) ভুল নামায আদায়কারীকেও প্রত্যেক রাকআত ও সাজদায় এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এভাবে করলে তোমার নামায পরিপূর্ণ হবে। যদি তা থেকে কিছু কম হয়, তাহলে তোমার নামায অপূর্ণ হবে। হমদ, তিরমিযীসনদ সহীহ।

Posted on জুন 17, 2013, in সমসাময়িক, সহীহ্ হাদীস and tagged , , , . Bookmark the permalink. মন্তব্য দিন.

রিপ্লাই

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s