কুরআন-এ যে খাদ্য হারাম বলা হয়েছে, একই সম্মতি পোষনে বাধ্য হয়েছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান।(পর্ব-১)

quran-science

আল্লাহ তাআলা যেহেতু সকল জ্ঞানহেকমতবিজ্ঞতার খনি, আকর, উৎস সেহেতু হালালহারামের ঘোষনার ব্যাপারে বৈধ নিরংকুশ অধিকার তাঁরই। কোন রাজাবাদশাহ, আমীরওমরাহ বা প্রভাবশালী লোকের এ অধিকার নেই।

আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত দ্বীন ইসলাম বিশ্ব মানবতার জন্য পূর্ণঙ্গ জীবন বিধান(Complete Code of Life)। আমাদের ব্যাক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক, জীবন, খাদ্য, পানীয় গ্রহণ, পোশাকপরিচ্ছেদ, বসবাসের সামগ্রী, আয়উপার্জন, পেশা, স্বভাবগত কামনাবাসনা চরিতার্থ করার সিমানায়, আত্মীয় পরিজনদের সম্পর্ক রক্ষায়, আকিদাবিশ্বাস, ধর্মীয় অনুশাসনে, জাগতিক লেনদেন আর কাজকর্মে, চিত্ত বিনোদনে, ইসলাম হালালহারামের সুউচ্চ প্রাচীর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাই এই জীবন বিধান মেনে নিয়ে আমাদের বাস্তব জীবনে তার যথাযর্থ প্রতিফলন ঘটনো ঈমানের দাবী ও চাহিদা।

 

যুগের পরিবর্তনে কুরআনের কোন পরিবর্তন নেই, বরং তা সকল কালে সকলের জন্য কল্যান ও মানব জাতির সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত। কুরআনের বিধিবিধান সম্পর্কে ডঃ জনসনের মন্তব্য_

এ গ্রন্থের বাণী সমূহের অর্থ এতো বেশী সার্বজনীন ও সর্বকালীন যে, ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক সকল যুগযামানাকে এর সুরে সুর মিলাতে হয়। এ গ্রন্থের সুরের ধ্বনি গিরি কান্তার, মরু প্রান্তর, গ্রামবন্দরশহর, এককথায় বিশ্ব রাজ্যের সর্বত্রই প্রতিধ্বনিত হয়ে থাকে”।

বিস্তারিত অনেক বিষয়ে তুলা ধরা সম্ভব না হলেও কুরআনে হারাম খাদ্য ভক্ষন সম্পর্কিত আয়াত তুলে ধরার মাধ্যমে বিষয়টা পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

সূরা মায়িদার ৩নং আয়াতে উল্লেখ আছে যে,

 

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ [٥:٣]

তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আলোচ্য আয়াতে দু’প্রকার জন্তুকে হারাম ঘোষনা করেছেন।

যেমনঃ

) যে সব জন্তুর মাংস মানুষের জন্য শারিরীক দিক দিয়ে ক্ষতিকর, যেমন, দেহে রোগ সৃষ্টি হতে পারে।

) যে সব জন্তু আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে ক্ষতিকর। যেমনঃ চরিত্র আর অন্তরগত অবস্থা বিনষ্ট হতে পারে। কুরআনে পাকে সেগুলো অশুচি আখ্যা দিয়ে হারাম করা হয়েছে।

সুতরাং যেসব জন্তুর গোশত কোন শারিরীক ও আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে ক্ষতিকর নয় সেগুলোকে পবিত্র আর হালাল ঘোষনা করা হয়েছে।

 

Download This Article

Posted on মার্চ 18, 2012, in আর্টিকেল and tagged , , , . Bookmark the permalink. মন্তব্য দিন.

রিপ্লাই

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s