মাতৃভাষাঃ “আল্লাহর অনবদ্য কুদরতের পরিচয়”

Download This Article

মাতৃভাষাঃ “আল্লাহর অনবদ্য কুদরতের পরিচয়”

লেখকঃ জসিম উদ্দিন মাহদী

ভাষা মানবজাতির মনের ভাব প্রকাশের একটি মাধ্যম। পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ হাজারেরও অধিক ভাষা রয়েছে। যা বিভিন্ন জাতির পরিচয় বহন করে। এক এক জাতির ভাষা এক এক রকমের হয়ে থাকে। তবে মানুষ জন্মলগ্নে মায়ের মুখে যে ভাষা শিখে সে ভাষাই সে লালন করে। পরবর্তিতে আবার হুশ-জ্ঞান হওয়ার পর ব্যক্তির ইচ্ছানুযায়ী হরেক রকম ভাষা শিখতে পারে। তবে মায়ের ভাষাকে সে উপেক্ষা করতে পারেনা। বাংলা সাহিত্যের দিগপাল মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ইতিহাসই বাঙ্গালি জাতির নিকট এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আমরা বাঙ্গালি জাতি। দেশে-বিদেশে আমাদের দুটি পরিচয়, বাংলাদেশী ও বাঙ্গালি। স্বাধীনতার দিক থেকে আমরা বাংলাদেশী, ভাষাগত দিক থেকে আমরা বাঙ্গালি। আমরা সেই জাতি, যে জাতি মায়ের ভাষাকে রক্ষার জন্য বুকের তাজা খুনে, পিচঢালা কালো পথকে রঙ্গিন করে আত্মজীবন বিসর্জণে কন্ঠাবোধ করিনি। নজিরবিহীন এঘটনা বিশ্বদরবারে কোথাও পরিলক্ষিত হয়নি, কেবল বাঙ্গালি জাতিই মায়ের ভাষা রক্ষার তরে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিল। বাংলা ভাষা আমার মায়ের ভাষা, বাংলা ভাষা আমার রাষ্ট্রীয় ভাষা, এ ভাষা রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত এবং সফিউলের খুনরঞ্জিত ভাষা।

মহান আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি কূলের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে মানুষকেই সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টিকর্তার উল্যেখযোগ্য সৃষ্টি ফেরেশতা, জীব-জন্তু, পশু-পাখি ইত্যাদি আরো অনেক সৃষ্টি রয়েছে। কিন্তু তিনি সকলের উর্ধ্বে রাখলেন মানবজাতিকে, এটা মানবজাতির জন্য এক অসীম নেয়ামত। পবিত্র কালামের বাণী রহমান বা করুনাময় আল্লাহ হলেন তিনি, যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে বর্ণনা শিখিয়েছেন।

এরপর মহান আল্লাহ তাআলা মানবজাতির নিকট প্রশ্ন ছুড়ে দিলেনঃ অতএব, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহ বা নেয়ামতকে অস্বিকার করবে?

মানবজাতিকে আল্লাহ তাআলা খুব ভালোবাসেন বলেই অতি আদরে ক্লেদাক্ত কাদা মাটির দ্বারা তাদের সৃষ্টি করেছেন। মাটির সৃষ্টিতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ আল্লাহর নিকট ভাষাগত, দেশগত, বংশগত কোন ঐতিহ্যই প্রাধান্য নয়। বরং তার প্রতি ভীতি প্রদর্শণই মূল প্রাধান্যের বিষয়। মাটির মাঝেই তা গভীরভাবে নিহিত। তাই তিনি বলেনঃ হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেজগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। এখানেই শেষ নয়, মহান আল্লাহ সৃষ্টি নৈপুন্যতার অনবদ্য এক দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন সূরা আর-রূমে। এখানে মহান সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির কলা-কৌশল চমকার ও লোভনীয় ভঙ্গীতে উপস্থাপন করেছেন। মানবজাতিকে পেশ করেছেন তার সৃষ্টিতত্তের লুকায়িত তথ্যগুলো, সকল সৃষ্টবিষয় বর্ণনার পাশাপাশি তিনি পৃথিবীর বৈচিত্রময় বিভিন্নতরর ভাষা ভাষিরও রহস্য উন্মোচন করে মাতৃভাষায় তার কুদরতের পরিচয় ফুটিয়ে তুলেন। তার ভাষায়ঃ “তার আরও একটি কুদরতি নিদর্শণ হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষাও বর্ণের বৈচিত্র! নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদশণাবলী রয়েছে।

অন্য জায়গায় বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক জ্ঞানিদের লক্ষকরে বলেনঃ নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত্রি ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্যে। যারা দাড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা-গবেষনা করে আসমান ও যমীন সৃষ্টির বিষয়ে, (তারা বলে) হে পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাচাঁও।

এভাবে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন মানবজাতির সামনে সুনিপুনতার সহিত তার সৃষ্টিতত্ত্বের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে মহান আল্লাহ তাআলার সূক্ষ্ম সুপ্তময় কুদরত। যা কেবল জ্ঞানি বা বোধসম্পন্ন মানুষই উপলব্ধি বা বুঝার ক্ষমতা রাখেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, মাতৃভাষা কেবল আল্লাহরই দান। মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছাই তা অর্জিত হয়েছে। জুলুমবাজরা আকন্ঠ চেষ্টা করেও ব্যর্থতার গ্লানি বহন করে, নতশিরে আমার ভাষাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। মাতৃভাষাকে ছিনিয়ে নেওয়া তাদের ভাগ্যে জোটেনি। কারন, কথায় আছেনা রাখে আল্লাহ মারে কে?(মারেও আল্লাহ) তাই বলা যায় মাতৃভাষা খোদার দান হিসাবে তার প্রতি ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও শোকরগুজার করা আমাদের অত্যাবশ্যক ও জরুরী। সাথে সাথে এই ভাষা কে রক্ষার তরে যেসকল শহীদ তাদের তাজা প্রাণ: তেজদীপ্ত যৌবন বিসর্জন দিয়েছেন তদের রূহের মাগফেরাত কামনা করা উচিত। মহান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে; তাদের ত্যাগ ও কুরবানীকে কবুল করুক এবং তাদের রেখে যাওয়া ওলী-ওয়ারীশদেরকে সকল বিষয়ে সফলতা দান করুক-আমীন।

jasim.uddin762@Gmail. com

Posted on ফেব্রুয়ারি 17, 2012, in সমসাময়িক and tagged , . Bookmark the permalink. মন্তব্য দিন.

রিপ্লাই

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s