রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা

হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে রাব্বুল আলামীন হিদায়াতের অনুপম বাণী ও সত্য দ্বীনসহ এই পৃথিবীতে প্রেরণ করিয়াছেন। তিনি উহাকে সত্যায়ন করিবার জন্য তাঁহাকে সেই সকল অকাট্য দলীল ও দিপ্তিমান মু’জিযা প্রদান করিয়াছিলেন তন্মধ্যে অনন্য মু’জিযা হইল ‘ইন্ শিকাকুল কামার’ বা চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা। ইহা ঐ সকল মু’জিযার অন্তর্ভূক্ত যাহার মুকাবিলা করা গোটা মানবজাতি তথা সৃষ্টিজগতের কাহারও পক্ষে সম্ভব না। ইহা রাসূলল্লাহ(সাঃ) এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ হইতে সংঘটিত হইয়াছে। আল-কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ এই প্রসঙ্গটি চমৎকারভাবে ব্যক্ত করেছেন। ৫৪ নং সূরা কামার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই সম্পর্কে বলেন।

চন্দ্র বিদীর্ণকরন প্রসঙ্গে উক্ত আয়াত সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কুরআন গবেষকগন মতামত ব্যক্ত করিয়াছেন। উল্লিখিত আয়াতগুলির শুভ সূচনা মহান রাব্বুল আলামীন কিয়ামত আসন্ন হওয়ার সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে আরম্ভ করিয়াছেন। ইহার পর তিনি হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অনন্য মু’জিযা চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার বিষয়ে এক সংক্ষিপ্ততম অথচ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য ব্যক্ত করিয়াছেন। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কর্তৃক দ্বিখন্ডিত চাঁদ প্রদর্শন সন্দেহাতীতভাবে যেমন একটি অনন্য মু’জিযা, তেমনি ইহা আসন্ন কিয়ামতের একটি বড় আলামতও বটে। কেননা মহান আল্লাহর সীমাহীন কুদরতে চন্দ্র দ্বিখন্ডে বিভক্ত হইয়া প্রদর্শিত হওয়াটাই প্রমান করে যে, কিয়ামতে সমগ্র গ্রহ-উপগ্রহের খন্ড-বিখন্ড হইয়া যাওয়া তেমন কোন অসম্ভব ব্যাপার নহে।

চন্দ্র দ্বিখন্ডিতকরণ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের মুফাসসিরীনে কিরাম বলেন, মক্কার কাফিররা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলিল, তুমি যদি তোমার দাবিতে সত্যবাদী হও তাহা হইলে আমাদের সামনে চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করিয়া দেখাও। তাহারা সকলেই এই মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হইল যে, তিনি যদি এই মু’জিযা প্রদর্শন করিতে পারেন তবে তাহারা ঈমান আনয়ন করিবে। তখন ছিল পূর্ণিমার রাত। ঈমান গ্রহন করার শর্তে কাফির-মুশরিকদের দাবি পূর্ণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি আল্লাহ তা’আলার সীমাহীন অনুগ্রহে চন্দ্রকে বিদীর্ণ করেন। ইহার অর্ধেক সাফা পর্বতে এবং বাকী অর্ধেক সাফার ঠিক বিপরীতে কু’আয়কি’আন পাহাড়ে পতিত হয়।এই সময় তাহারা দ্বিখন্ডিত চাঁদের মধ্য দিয়া হেরা পর্বত দেখিতে পাইতেছিলেন। তারপর তাহারা বলিল, মুহাম্মাদ আমাদেরকে যাদু করিয়াছেন। কিছুক্ষন পর তাহারা আবারও বলাবলি করিতে লাগিল, মুহাম্মাদ যদিও আমাদেরকে যাদু করিয়াছে তবে সে সকল মানুষকে তো আর যাদু করিতে পারে নাই। ইহার পর কাফির সর্দার আবূ জাহল্ তাহাদেরকে বলিল, আমাদের কাছে ‘আহলুল বাওয়াদী অর্থাৎ গ্রাম্য বেদুঈনদের আগমন পর্যন্ত অপেক্ষা কর এবং তাহারা কি বলে শুনিয়া লও। তাহারা যদি চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার অনুরূপ সংবাদ প্রদান করে তবে উহা নিশ্চয়ই সঠিক, অন্যথা মুহাম্মাদ আমাদের চোখে যাদু করিয়াছে। ইহার পর তাহারা যখন আগমন করিল এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার অনুরূপ সংবাদ প্রদান করিল তখন আবূ জাহল্ ও উপস্থিত মুশরিকরা বলিল, ইহা তো চিরায়ত যাদু।অবশেষে মহান আল্লাহ এই প্রসঙ্গে নাযিল করেন উপরিল্লিখিত আয়াত। এভাবে সীরাত বিশ্বকোষের একাদশ খন্ডের ২৪০-২৫১ পৃষ্ঠায় দারুনভাবে বিস্তারিত বলা আছে।

নিম্নে এই সম্পর্কে সহীহ হাদীস তুলে ধরা হলো।

তাফসীর ইবনে কাসীরের মধ্যে ৫৪ নং সূরা কামার এর আরো তথ্য পাওয়া যাবে। এই লিংকে ডাউনলো করুন।

Posted on সেপ্টেম্বর 6, 2011, in সীরাত বিশ্বকোষ and tagged , . Bookmark the permalink. ১ টি মন্তব্য.

রিপ্লাই

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s